আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : মুসলিম অধ্যুষিত দেশ দেখে মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন ইসমাইল (৪০)। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আর উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনে সাগর পাড়ি দিয়ে এখানে এসেও নিরাপত্তাহীনতা আর বঞ্চনায় কাটছে জীবন। ইসমাইলের ভাষায়, মালয়েশিয়ায় এসে আমি প্রতিদিন আফসোসে মাথা ঠুঁকি। কিন্তু এ াড়া আমার কোনো উপায়ও ছিল না। মালয়েশিয়া একটি মুসলিম দেশ ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী বলেই এখানে এসেছেন বলে জানান ইসমাইল। দেশটিতে কৃষি, কলকারখানা, স্থাপনা ও নির্মাণ কাজে প্রচুর শ্রমিকেরও প্রয়োজন রয়েছে। এসব কাজে খুব সস্তায় শ্রম দেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা। এর মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ব্যাপক হয়রানি করে তাদের। যে কোনো সময় আটক করে ঘুষ দাবি করে। ইসমাইল বলেন, পুলিশকে ঘুষ দিয়েই বেঁচে আছি। কনস্ট্রাকশনে কাজ করি। বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। যখন খাবার কিনতে বাইরে যাই, পথরোধ করে ঘুষ দাবি করে। কখনও কখনও পুরো মাসের বেতন ১৩৬ ডলারের সবটুকুই ঘুষ দিতে চলে যায়। অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে পুলিশ তাকে দুবার আটক করেছে। একবার তাকে দেশ থেকে বের করে থাইল্যান্ডের নৌকায় তুলে দিয়েছে। মানব পাচারকারীরা আবার মালয়েশিয়ায় ফেরত আনার কথা বলে ৫৪৩ ডলার নিয়েছে। জাতিসংঘের তালিকা অনুযায়ী ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে মালয়েশিয়ায়। তবে তাদের জন্য সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সম্মত হয়েছে। এএফপি।